উখিয়া নিউজ ডটকম
প্রকাশিত: ১০/০২/২০২৬ ২:৫৯ পিএম

কক্সবাজারে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ পুরো এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত যৌথবাহিনীর প্রেস ব্রিফিং ও মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

এ সময় রামু ক্যান্টনমেন্টের ১০ পদাতিক ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করে ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নয়, সব কেন্দ্রকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। যাতে কোনো দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত সেখানে পৌঁছানো যায়। এজন্য একাধিকবার রিহার্সালও সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে কোনো পরিস্থিতি উদ্ভূত হলে আমরা দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবো।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আরও জানান, অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবার সেনা মোতায়েনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পগুলোতে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে চেকপয়েন্ট, ফেন্সিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামতও সম্পন্ন হয়েছে। ক্যাম্পের আশপাশে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে সেনাবাহিনীসহ এপিবিএন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে পারবো। রোহিঙ্গারা যেন কোনোভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।’

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল সুপতা জানান, গত ৩ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে মোট ৪৬টি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, ডাকাত দলের সদস্য, কিশোর গ্যাং, চোরাকারবারি ও বিভিন্ন মামলার আসামিসহ মোট ৫৯ জন অপরাধী এবং ১ হাজার ১৪৯ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে, ৬টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১১৪টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র ৮হাজার ৪৫০ পিস ইয়াবা, ২হাজার ৩১১ লিটার দেশীয় মদ, ৪৯ লিটার বিয়ারসহ বিভিন্ন নাশকতা সৃষ্টিকারী সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফয়াতকৃতদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, র‍্যাব-১৫-এর সিনিয়র এএসপি মো. ফারুক, বিজিবি রামু সেক্টরের মেজর নাজমুস সাকিব, জি-২ (ইন্ট) মেজর ওমর ফারুক এবং কক্সবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ

পাঠকের মতামত

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, আটক ৩

মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ...